toto slot
প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর এই মেরুদন্ডকে সোজা-সুদৃঢ়ভাবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন হয়শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিবিড়  পরিচর্যা, যার তত্বাবধানে মানুষের সহজাত সংস্কার, ঐতিহ্য, কৃষ্টি জাগ্রত হয়ে মানুষের ব্যক্তিত্ব সংহত হয়ে ওঠে।আর এক্ষেত্রে একটি সার্থক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভুমিকা অনস্বীকার্য। তেমনই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো বুনাগাতী ডিগ্রী কলেজ। মাগুরা শহর থেকে ২২ কি. মি. দক্ষিণে এবং শালিখা থানা থেকে ১০ কি.মি. পূর্বে বুনাগাতী বাজারের প্রাণকেন্দ্রে যার অবস্থান। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের ২৫ জানুয়ারী তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম জনাব মোঃ আব্দুল হামিদ খানের সভাপতিত্বে স্থানীয় জনগনের উপস্থিতিতে কলেজ প্রতিষ্ঠার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যদিও এর আগে থেকেই কলেজ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা চলতে থাকে যার উদ্যোক্তা ছিলেন বাউলিয়া গ্রামের বাবু নীরদ কৃষ্ণ সরকার। তারই নেতৃত্বে কলেজ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রথম এলাকাবাসী আরো একত্রিত হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁকে কলেজ সংলগ্ন রাস্তায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ফলশ্রুতিতে এলাকাবাসী আরো তৎপর হয়ে ওঠে তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য । উল্লেখ্য যে, কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জমিদানকারী ছিলেন- বুনাগাতী নিবাসী মরহুম জনাব মোঃ মতিয়ার রহমান মোল্যা, এছাড়া স্থানীয় জনসাধারণের মধ্য থেকে আরও অনেকে জমি দান করেছেন, যাদের কাছে এলাকাবাসী আজীবন ঋণী থাকবে। জমি নির্বাচনের পর কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী তাদের প্রাপ্য রিলিফের টিন, বাঁশ, কাঠ ইত্যাদি দান করেন। আর নগদ অর্থ যোগান দেওয়ার ইতিহাস টা ছিল একটু অন্যরকম। তৎকালীন এলাকাবাসী বিনোদনের জন্য বুনাগাতী বাজারে “গীতশ্রী“ নামের যাত্রাদল আনা হয়, আর এই যাত্রাগানের থেকে একটা মোটা অঙ্কের লভ্যাংশ পাওয়া যায় যা কলেজ নির্মানের কাজে ব্যয় করা হয়। কলেজঅবকাঠামো নির্মাণ ও আসবাপত্র তৈরির পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি কার্যক্রম চলতে থাকে। শুরুতে ৭ জন শিক্ষকও ৪ জন কর্মচারী নিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু হয়, যার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন জনাব এস. এম. হারুনার রশীদ, তার দক্ষ পরিচালনায় কলেজটি ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ হতে থাকে। এছাড়া এলাকার সুধীজনের সর্বসম্মতিক্রমে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয় এবং স্থানীয় জনগনের অনুদানে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহ করা হয়। পরবতীর্তে ১৯৭৩ সালের ১লা জুলাই যশোর শিক্ষাবোর্ড কতৃকপ্রাথমিকভাবে কলেজটি স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৭৪ সালে জুন মাস থেকে শিক্ষক-কর্মচারীগণ বেতনের সরকারী অংশপ্রাপ্ত হয়। মানবিক ও বানিজ্য বিভাগ দিয়ে কলেজের যাত্রা শুরূ হলেও শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৮৪সালের ১লা জুলাই বিজ্ঞান বিভাগ চালু করা হয় এবং ১৯৮৭ সালের ১লা জুলাই ডিগ্রী কলেজ হিসাবে অনুমোদন পায়।অল্পকিছু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্য আটশতাধিক এবং শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৪৯ জন। প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে স্থাপিত কলেজটিতে ২ টি একাডেমিকভবন, ১ টি প্রশাসনিক ভবন , ১ টি গ্রন্থাগার , ১টি কম্পিউটার ল্যাব, ৩ টি সায়েন্স ল্যাব এবং দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার বিদ্যমান। দক্ষ শিক্ষকমন্ডলীর দ্বারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান । সর্বশেষ- বুনাগাতী ডিগ্রী কলেজ তার সুনাম অক্ষুন্ন রেখে এগিয়ে চলুক এবং প্রতিষ্ঠানের প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা আশানুরুপ ফল পেয়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে আত্মনিয়োগ করে কলেজে ঐতিহ্য ও সম্মানকে সমুন্নত রাখুক এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

toto slot situs toto situs toto slot